Saturday, February 20, 2016

Thursday, February 18, 2016

sorce tax


VAT Registration


সম্পদশালীর সংখ্যা মাত্র ১১ হাজার!

সম্পদশালীর সংখ্যা মাত্র ১১ হাজার!
দেশে সম্পদশালীর সংখ্যা মাত্র ১১ হাজার। ২ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা সম্পদের মালিক এসব বিত্তবানের কাছ থেকে গত কর বর্ষে আদায় হয়েছে ২৫৪ কোটি টাকা। আয়কর বিভাগের হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশে ২ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন ৭৭৯ জন। এদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর আদায় করা হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা। তবে প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে ২ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিকদের এমন সংখ্যায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ আয়কর কর্মকর্তারাই। সঠিকভাবে কর দিলে এ সংখ্যা বহুগুণ বাড়তে পারে বলে তারা দাবি করেছেন।
‘সারচার্জ’ বা ‘সম্পদ কর’ আরোপের পর গত ২ কর বর্ষে বিত্তশালীদের কাছ থেকে কর আদায় বাড়ছে। ব্যক্তির সম্পদের ভিত্তি মূল্যের ওপর এ কর আদায় করা হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিত্তশালীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায়ের জন্য ৪টি স্তরে সারচার্জ আরোপ করা হয়। ২ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ১০ কোটি টাকার কম সম্পদশালীর জন্য নির্ধারিত করের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ সারচার্জ হিসেবে ধার্য করা হয়। একইভাবে ১০ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ২০ কোটি টাকার কম সম্পদশালীদের জন্য ১৫ শতাংশ, ২০ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ৩০ কোটি টাকার কম সম্পদশালীদের জন্য ২০ শতাংশ, ৩০ কোটি টাকার বেশি সম্পদশালীদের জন্য ২৫ শতাংশ সারচার্জ নির্ধারণ করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সারচার্জ দিয়েছেন ১০ হাজার ৯৩১ জন। এদের কাছ থেকে নির্ধারিত করের অতিরিক্ত কর আদায় করা হয়েছে ২৫৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে সারচার্জ দিয়েছিলেন ১০ হাজার ১৫২ জন। আদায় হয়েছিল ২০৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে ২ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন ৭৭৯ জন। এদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর আদায় করা হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা।
এদের মধ্যে কর অঞ্চল-৫ এর অধিক্ষেত্রভুক্ত করদাতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৮৫ জন সারচার্জ দিয়েছেন। এ কর অঞ্চলে করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ও এনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপরেই রয়েছে কর অঞ্চল-৬ এর করদাতারা। সারচার্জ দিয়েছেন ৭৫৬ জন। এ কর অঞ্চলে করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন ধানমণ্ডি, ঝিগাতলা, কলাবাগান, পান্থপথের বাড়িওয়ালা এবং বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কর অঞ্চল-২ এর করদাতারা। এই কর অঞ্চলে ৭২২ জন করদাতা সারচার্জ দিয়েছেন। এ কর অঞ্চলে করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন গার্মেন্টের পরিচালক ও পুরান ঢাকার বাসিন্দারা।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ঢাকায় সারচার্জ দিয়েছেন ৭ হাজার ৭৪৪ জন, চট্টগ্রামে ১ হাজার ৭৪৮, খুলনায় ৩০৬, রাজশাহীতে ৯০, বরিশালে ৮৬, সিলেটে ২৩৪, নারায়ণগঞ্জে ১৮৪, গাজীপুরে ৯৬, কুমিল্লায় ২৫৫, ময়মনসিংহে ৭০ ও বগুড়ায় ৮১ জন। আর সবচেয়ে কম সারচার্জ দিয়েছেন রংপুরের বাসিন্দারা। মাত্র ৬৭ জন।
গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দেয়া সম্পদ বিবরণীর তথ্য থেকে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও চলতি কর বর্ষে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছিল।
এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাদের মতে, কর কর্মকর্তার স্বল্পতা ও আইনি দুর্বলতার কারণে সঠিকভাবে সারচার্জ করা সম্ভব হচ্ছে না। সারচার্জ আদায় করা হয় সম্পদের ভিত্তি মূল্যের ওপর। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি ১০ বছর আগে একটি বাড়ি অথবা ফ্ল্যাট যে দামে কিনেছিলেন সেই মূল্যের ওপর সারচার্জ দেবে। আবার বর্তমানে যে সব বাড়ি-ফ্ল্যাট-জমি কেনাবেচা হচ্ছে তা থেকেও যথাযথভাবে সারচার্জ পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ এসবের নিবন্ধনের সময় প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখানো হয়। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, ডেসকোসহ সরকারি সেবা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সেবার নেয়ার আগে আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র জমা দেয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করলে কর ফাঁকি অনেকাংশে কমবে। সারচার্জ আদায় বাড়াতে সরকারি সব সংস্থাকে একত্রে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন তারা।
অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্স ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরের মতে, সারচার্জ আদায় বহুগুণ বেড়ে যাবে যদি বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী সম্পদের দর নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া অনলাইনে ভূমি ও গাড়ি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হলে সারচার্জ আদায় বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদের মতে, অর্থনীতির আকার অনুযায়ী সারচার্জ আদায়ের হার নগণ্য। অনেক সম্পদশালী করের আওতার বাইরে রয়েছেন। আবার যারা কর দিচ্ছেন তারাও সঠিকভাবে সম্পদের হিসাব দিচ্ছেন না। সারচার্জ আদায় বাড়াতে খাতভিত্তিক মনিটরিং বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

Friday, February 12, 2016

কোটিপতি শনাক্তে এবার জরিপ করবে এনবিআর

কোটিপতি শনাক্তে এবার জরিপ করবে এনবিআর


ব্যাংকগুলোতে জমা থাকা কিংবা আগাম অর্থের হিসেবে দেশে কোটিপতির সংখ্যা সোয়া ১ লাখ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে কোটিপতি সংখ্যা ৫৬ হাজারের একটু বেশি।

এবার দেশে কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা কত তার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে জরিপ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে ঢাক-ঢোল না পিটিয়ে অনেকটা ভিন্ন কৌশলে জরিপের প্রক্রিয়াগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন সূত্র রাইজিংবিডিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে প্রত্যেক ইউনিয়নে গিয়ে কোটিপতিদের শনাক্ত করবে প্রতিষ্ঠানটি। সেক্ষেত্রে স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পদের হিসাব বিবেচনায় নিয়েই কোটিপতির হিসাব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কোটিপতির সঠিক সংখ্যা হিসাব করে তাদেরকে করের আওতায় আনা হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের বক্তব্যেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘এনবিআর এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে আমরা বহুদূর এগিয়েছি। তবে আমরা কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছি। বেশ কয়েকটি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা লাগবে। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। যথা সময়ে আপনাদের জানানো হবে।’

এটাকে ঠিক জরিপ না বলে অনুসন্ধান বলতে পারেন, উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি নিজের উদ্যোগে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দিয়েছেন দেশকে স্বাবলম্বি করতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি।’

এ দিকে চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর দফতর, অর্থমন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরকে জরিপ করে কোটিপতি শনাক্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকল নির্দেশনায় এনবিআরকে কোটিপতিদের সঠিক সংখ্যা শনাক্ত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শনাক্তের পর কোটিপতিদের আয়করের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার কথাও বলা হয়েছে এনবিআরে পাঠানো নির্দেশনায়।

গত ২৫ জানুয়ারি এক প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কোটিপতির বিষয়ে বলেন, গত পাঁচ বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৬ হাজার। ব্যাংকগুলোতে জমা থাকা এবং আগাম অর্থের হিসাবে দেশে কোটিপতির বর্তমান সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫ জন। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে করদাতা মাত্র ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৫০৩ জন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক হিসাবধারী হিসেবে দেশে কোটিপতি রয়েছে ৫৬ হাজার ২৪৫ জন ব্যাক্তি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে এসব ব্যাংক একাউন্টে কোটি টাকার উপর স্থিতি ছিল।

কিন্তু ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছে মাত্র ৬ হাজার ১৭৫ জন কোটিপতি। অফিসিয়াল হিসেবেই প্রায় ৫০ হাজার কোটিপতি আয়কর রিটার্ন জমা দেয় না কিংবা আয়কর দেয় না।

ব্যাক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়-সীমা ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর শেষ হয়। এ সময়ে সারা দেশে এনবিআরের কর অফিসগুলোতে জমা পড়া আয়কর রিটার্নে ১ কোটি টাকার উপর সম্পদ দেখিয়েছে মাত্র ৬ হাজার ১৭৫ জন করদাতা।

এনবিআর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে দেখা যায়, ২০১১ করবর্ষে সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী চূড়ান্ত হিসাবে ২ কোটি টাকার ওপরে সম্পদ আছে এমন করদাতার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩০৩ জন। যেখানে ২০১২ সালে ৪ হাজার ৮৬৫ জন, ২০১৩ সালে ছিল ৫ হাজার ১৪৫ জন এবং ২০১৪ সালে ওই সংখ্যা ছিল ৫ হাজারের কিছু বেশি।

বিষয়টি অনেকটা অপ্রত্যাশিত বলেছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, এটা অপ্রত্যাশিত যে এত কম সংখ্যক ব্যাক্তি কোটি টাকার উপর সম্পদ দেখিয়েছেন। সঠিক হারে আয়কর দিয়ে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। যে সকল কোটিপতি আয়কর ফাঁকি দিচ্ছে তাদের জন্য অগ্রীম বার্তা হলো কর দাও নিশ্চিন্ত থাক। তা না হলে এনবিআর কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

গত নভেম্বরে শেষ হওয়া সময়ে ৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৯৪ জন করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর বিপরীতে আয়কর জমা পড়েছে ১ হাজার ৫৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তবে ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৩৮ জন করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছিলেন।